Personal লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Personal লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০০৮

আমি এখন OCA...

গত বছর জুলাই (২০০৭) এ আমার ORACLE এর DBA প্রশিক্ষণ শুরু হয়, শেষ করলাম রমজানের পর অক্টোবরে। তারপর ২০০৮ এর মার্চ থেকে Vendor exam দেয়া শুরু করলাম। ভেবেছিলাম ৪ টা পরীক্ষা এ বছর অক্টোবরের মধ্যে শেষ করে দেব। কিন্তু তা আর হচ্ছে না। ২ টা পরীক্ষা দেবার পর BASE এর পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেল, আজ হবে কাল হবে করতে করতে আমাকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিয়ে এল। কবে যে ওদের পরীক্ষা আবার শুরু হবে? আবার এই অক্টোবর পেরিয়ে গেলেই আমার Discount এর সুবিধা শেষ। বেশ চিন্তায় আছি।
এদিকে ২ পরীক্ষা (SQL & Funda-I) দিয়েছি ৩ মাস হয়ে গেল, কিন্তু আমার একটা cirtificate আসার কথা, তার খবর নাই। অগত্যা মেইল করলাম ORACLE এ। দেখলাম ওরা বেশ জলদি সাড়া দিল এবং ক্ষমাও চাইলো দেরি হওয়ার জন্য, এভাবে ক্ষমা চাইলে আর কি করা? দিলাম স্মমানের সহিত ক্ষমা করিয়া( তাছাড়া আর কি ঘোড়ার ডিমটাই বা আমি করতে পারতাম?)। আমাকে জানানো হল যে খুব শীঘ্রই আমি আমার Critificate আমার বাসায় পেয়ে যাচ্ছি। সপ্তাহ দুই পরেই আমার কাছে DHL থেকে ফোন এল যে তাদের কাছে আমার জন্য একটা Kit এসেছে এবং আমার ঠিকানা নিশ্চিত করলো। আবার ORACLE থেকেও মেইল করা হল যে DHL এর মাধ্যমে
9436106665 নং এর Kit টা আমার জন্য পাঠানো হইছে। পরদিন সকালে DHL থেকে আমার বাসায় লোক এল। এইবার হল আসল কাহিনি-





আমি সারারাত জেগে ফজরের পরে ঘুমাইছি, DHL এর লোক আসছে বেলা ১১ টায়। ঘুম চোখে উঠলাম, জিনিস বুঝে নিলাম, তারপর দেখলাম বেচারা আমার কাছ থেকে কিছু একটা চাচ্ছে, আমি জিজ্ঞেস করলাম- "আমার কি আর কোন কাজ বাকি আছে"? উত্তর এল- "না স্যার, তবে আপনি যদি খুশি হয়ে কিছু দিতেন......" বুঝলাম, জলদি হাতে ১০ টাকার ২ টা চকচকে নোট ধরিয়ে দিলাম। দেখলাম বান্দা বেশ খুশি হয়ে চলে গেল। বাসায় যখন আম্মা জানতে চাইল - "কত টাকা দিছিস"? আমি- "২০ টাকা"। এইবার আমার মা আর আমার পন্ডিত ছোট ভাই আমাকে পেয়ে বসলো- "ছি ছি ছি, তুই ২০ টাকা কোন কান্ডজ্ঞ্যানে দিলি"? আমার ছোট ভাই- "তোমার অন্তত ৫০ টাকা দেওয়া উচিত ছিল"। আমি - "আরে, এ মাসে আব্বা আমাকে মাত্র ২০০ টাকা দিয়েছে। আমি ২০ টাকা দেবার মুরদটাই ত আমার নাই"। সঙ্গে সঙ্গে আব্বার কাছে ফোন গেল, এবং সব জানানো হল। আব্বা- " অন্তত ১০০ টাকা দেওয়া উচিত ছিল"। আমি- "কিন্তু আমি কেন ওকে টাকা দিতে যাব? ওতো কম্পানী থেকেই খরচ পাচ্ছে, আমি তো তাকে খুশি হয়ে দিচ্ছি"। আমার ছোট ভাই- "ভাইয়া, তুমি না দিতে, তাও ভাল ছিল, কিন্তু ২০ টাকা দেওয়া ঠিক হয়নি"। আমার আর ভাল লাগল না, আমি আবার ঘুমাতে গেলাম।





আমার মা আমার নতুন নাম দিয়েছে, ২০ টাকা। এখন বেশ কিছুদিন আমার মা আমাকে এই নামেই ডাকাডাকি করবে। যাইহোক, সেটা ব্যাপার না, আসল কথা হল আমি এখন OCA (Oracle Certified Associates)। এটা ভাবতেই বেশ ভাল লাগছে। আর একটা কথা মনে হচ্ছে, এবার যদি আল্লাহ দিলে OCP এর Certificate টা আসে, তবে এবার আমি ইনশাআল্লাহ ২০টাকার একটু বেশি দিব। আমীন।

শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০০৮

হাবিব এর ডেনমার্ক গমন।

হাবিব, আমার বন্ধু, গত ১৭ই আগষ্ট এদেশ ছেড়ে চলে গেছে। ও student visa পাইছে Denmark এ। খবরটা যখন আমাকে বলছিল- "রাজু দোস্ত, আমি ভিসা পাইছি, দোস্ত এখন কাউকে ব্যাপারটা বলিসনা, আমি নিজে সবাইকে surprise দিব"। সে কি খুশি সেদিন ওর কন্ঠে।
তারপর একদিন আমি, হাবিব, রবিন আর আপন চারজনে মিলে Dhoni (Banani chinees restaurant) তে বসে লাঞ্চ সারলাম, হাবিবই লাঞ্চ করালো। আপন আর রবিন এর ইচ্ছা ছিল আমরা তিনজন মিলে হাবিব কে লাঞ্ছ করাবো, কিন্তু আমার পকেটের অবস্থা বরাবরই ফকিরের দশা, তাই আমি টু শব্দটি করার সাহস দেখাইনি। তাছাড়া হাবিব নিজেই লাঞ্চ করাতে চাইছিলো। আর আমি চাইছিলাম হাবিব এর সাথে সবার বিদায়ী সাক্ষাত করাতে। আমরা ওকে একটা গেঞ্জি গিফট করলাম।
ব্যাস, তারপর সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বনানী ছাড়ছিলাম। আমি IDB যাব। বেটা তখন আরেক ফন্দি আটলো। "চল দোস্ত, আমিও যাব, একটা IPOD কিনতে হবে"। আমি বললাম- "আব্বে হালায়, তুই যাচ্ছিস IPOD এর দেশে, এখান থেকে টাকা খরচ করবি ক্যান?" কিন্তু নাহ, ও কিনবেই। তারপর উনি বাসে যাবেননা, রিকশা দিয়ে ক্যান্টনমেন্টের ভিতর দিয়ে কচুক্ষেত হয়ে উনি মিরপুরের ভিতর ঢুকবেন। কারন উনি এই ফাকে ওনার ইয়ের বাসার সামনে দিয়ে একটু উকি মেরে যাবেন। সারা রাস্তা ইয়ের সাথে ফোনে কথা বলতে বলতে গেল। তারপর IDB থেকে ৫০০০ টাকা দিয়ে একটা IPOD কিনে চলে এল। আমি IDB তেই থেকে গেলাম, কাজ ছিল।

১৭ তারিখ সকাল বেলা ওর আমার সাথে বেরুনোর কথা। কিন্তু বিকালে ফোন করে আমাকেই ওর বাসায় আসতে বললো। বুঝলাম সারাদিন বেশ ধকল গেছে, আজকে আবার ওর ইয়ের সাথে দেখাও করতে হইছে, বিদায়ী সাক্ষাত (অবশ্য আমার জানামতে ভিসা পাবার পর ওরা বহুবার বিদায়ী সাক্ষাত সারছে, তারপরেও সাধ মেটেনি)। তাই আমি ওর বাসায় যাব ঠিক করলাম। আম্মাকে বলার সাথে সাথে আম্মা লাফ দিয়ে উঠলো- "আমিও যাব"। আমি প্রথমে একটু খুশিই হইছিলাম কিন্তু মেয়েলোক নিলে যা হয় আরকি, আমি যেখানে ৪ টার সময় বেরুবো ঠিক করছিলাম, সেখানে আমাকে ৬ টার সময় বেরুতে হল আম্মাকে নিয়ে। আম্মা আবার ২ টা পিজা বানিয়ে নিল (আমার মা নতুন পিজা বানাতে শিখছে, তাই এখন কোন অজুহাত পেলেই পিজা বানায়)। ওদের বাসায় আম্মাকে রেখে আমি আর ও বেরুলাম ওর আত্মীয় সজন্দের সাথে দেখা করে বিদায় নিতে। তারপর ঘরে আসলাম, এসে দেখি ঘরে সোহ্রাব, ফাহিম, মৌ ( হাবিব এর আরও বন্ধু) আরও কে কে বসে আছে। এরপর আমার সেই উল্লেখ্য পিজা এর অংশ আসলো যা মৌ আবার আমাদের মধ্যে বাটোয়ারা করলো। সব মিলিয়ে একটা উৎসব উৎসব লাগছিল আমার কাছে কিন্তু তারপরেও কেমন যেন একটা চাপা উত্তেজনা কাজ করছে সবার মধ্যে সেটা টের পেলাম কিছুক্ষন পর।

শুরু হল কান্নাকাটির পালা। হাবিব এর ফ্যামিলিতে কখনো কেঊ নাকি বাড়ি ছেড়ে বাইরে গিয়ে থাকেনি। মানুষের কান্নাকাটি দেখলে আমার ভিষন খারাপ লাগে (যদিও আমায় দেখে বোঝা যায়না কারন আমার মানুষের কান্না আসেনা)।
হাবিবকে জড়িয়ে ধরে সবাই কিছুক্ষণ কাদলো আর আমি চুপ করে হাবিব এর পিছে দাঁড়িয়ে রইলাম (মনে মনে ভাবছিলাম, আমি কবে যাব! আদৌ কি যাব!!!)।
তারপর এলো আমার পালা, গাড়িতে ওঠার ঠিক আগে ও আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না। আমার তখন মনে হছিল, এবার মনে হয় আমি আর পারবো না, আমিও দিলাম পানি বের করে, কান্না মনে হয় এক ধরনের ছোয়াচে সমস্যা। য়ামি ব্যাক্তিগতভাবে ওর কিছু Emotion শেয়ার করেছি। আমি জানি ও কেমন Emotional, একবার খুব বলতে ইচ্ছে হলো- হাবিব আর কারো কাছে কখনও নিজের হৃদয়ের ভিতরটা দেখাতে যাসনে। ধুর, আমি কিছুই বলতে পারলাম না। ও আমাকে জড়িয়ে ধরে বেশ কয়েকবার বললো - বন্ধু, তুই আমার সাথে airport পর্যন্ত আয়। কিন্তু আমি ওর কথা রাখতে পারেনি (আসলে আমি ভাল বন্ধু হতে পারিনি, কখনও পারবো কিনা তাও জানিনা)।

হাবিব যাওয়ার ১ দিন পরেই আমাকে ফোন করে। শুনলাম ২৮ তারিখ ওর ক্লাশ শুরু হবে। ও ভালই আছে। কিছু ছবি পাঠালো, সবার সাথে শেয়ার করলাম।










দোস্ত হাবিব, ভাল থাকিস...